শেক‌লে বাঁধা আল্পনার পা‌শে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ

সোহাগী আক্তার | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২১ ২২:২৯; আপডেট: ১৭ জুন ২০২১ ০৩:০০

ছবিঃ সংগৃহীত

এক যুগ থেকে শেকলে বাঁধা জীবন থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছেন মানসিক প্রতিবন্ধী সেই আল্পনা আক্তার (২০)। উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তায় তার পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তের কাংশা ইউনিয়নের গুরুচরন দুধনই গ্রামে আল্পনার বাড়িতে পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন। এ সময় আল্পনার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ও করণীয় বিষয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গুরুচরণ দুধনই গ্রামের আল্পনাকে (২০) প্রায় ১২ বছর ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে তাঁর পরিবার। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘১২ বছর শিকলে বন্দি আল্পনা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিকলবন্দী সেই আল্পনার পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ সময় ইউএনও রুবেল মাহমুদ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন আল্পনার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। এই দুই কর্মকর্তা আল্পনাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও আল্পনার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদানের আশ্বাস দেন।

উপজেলা প্রশাসন ও আল্পনার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছয় ভাইবোনের মধ্যে আল্পনা তৃতীয়। আল্পনার জন্ম ২০০১ সালে। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ২০০৮ সালে ঢাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে যায় আল্পনা। সেখানে হঠাৎ করেই জ্বর ওঠে তার। এরপর থেকেই দেখা দেয় মানসিক সমস্যা। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হলে কিছুদিন একটু সুস্থ থাকার পর আবার আগের মতো অসুস্থ হয় সে। ২০০৯ সাল থেকে তাকে শিকলবন্দি করে রেখেছে তার পরিবার।

বাবা ছিদ্দিক আলী বলেন, ‘মেয়েটার চিকিৎসা করাতে আমার ১০ শতাংশ জমি, পাঁচটা গরু বিক্রি করেছি। ২০ হাজার টাকা ঋণও করছি। ইচ্ছা থাকার পরেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় সে বাড়ি ছেড়ে এদিক-সেদিকে চলে যায়। এ জন্যই পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন আল্পনা সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছে। তার চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে। এ ছাড়া পরিবার চাইলে তাকে (আল্পনা) উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারটিকে ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে একটি দুর্যোগ সহনীয় ঘর প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ওই পরিবারে মানসিক ভারসাম্যহীন একটি মেয়ে আছে, এটি জানা ছিল না।’

তিনি আরো জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। এখন শিকল বন্দি আল্পনার চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা ও একটি প্রতিবন্দী ভাতার কার্ড প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও সরকারের অন্যান্য সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সিভিল সার্জন মহোদয়ের নির্দেশে আল্পনার খোঁজ নেয়া হয়েছে। তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থা নেব।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার ভূমি, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top