ভোগাই নদী বালু মহাল

অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে অস্তিত্ব সংকটে ভোগাই নদী

শেরপুর ট্রিবিউন | প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২২ ১৩:২৮; আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২২ ০৯:৪৭

ছবি: শেরপুর ট্রিবিউন

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার খরস্রোতা পাহাড়ি ভোগাই নদী কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠ নজরদারি ও সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নানামুখী প্রতিবাদের পরও বালু নেই এমনসব মৌজা বালু মহাল হিসেবে ইজারা প্রদানে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, বালু উত্তোলণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও নদী রক্ষা আন্দালনের নেতাদের মাঝে।

অন্যদিকে বালু থাকার পরও বেশকিছু মৌজাকে বালু মহালের আওতায় না আনায় ওইসব এলাকায় গতিপথ পাল্টে ফেলছে ভোগাই নদী। ভোগাই বালু মহাল গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও পরিবেশবাদীসহ অসংখ্য মানুষের প্রতিবাদের মুখে পুনরায় ১৪২৯ বঙ্গাব্দের জন্য এক বছর মেয়াদী ইজারা দেয়া হয়েছে।

মন্ডলিয়াপাড়া, আন্দারুপাড়া, ফুলপুর ও কেরেঙ্গাপাড়া এ চারটি মৌজায় ১২.৩২ একর জায়গায় ভ্যাট ও অন্যান্যসহ প্রায় দেড় কোটি টাকায় দেয়া হয়েছে এক বছর মেয়াদী বালু তোলার অনুমতি। বাস্তবে সেসব মহলে বালু তোলা তো দূরের কথা নদী রক্ষার নূন্যতম বালুও নেই। এরই মধ্যেই গত বছর বালু সংকটে ওইসব মৌজার নদী তীরবর্তী ফসলি জমি গর্ত করে বালু উত্তোলন যেখানে পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেখানেই পুনরায় বালু মহাল হিসেবে দেয়া হয়েছে ইজারা।

অন্যদিকে নদীর যেসব এলাকায় এখনো বালু মওজুদ আছে সেসব স্থানে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওইসব মৌজা বা স্থানসমূহকে রাখা হয়েছে বালু মহালের বাইরে। নদীর বালু মহাল ইজারায় এমন অপরিপক্ক সিদ্ধান্তে এখন অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে ভোগাই। যে নদী এক সময় মানুষের ভোগান্তির নাম ছিল সে নদীকে এখন ভোগাচ্ছে কতিপয় বালু ব্যবসায়ী। আর সে ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে কর্তৃপক্ষের সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোগাই নদীর কালাকুমা ও হাতিপাগার মৌজার কিছু এলাকা এখনও বালু উত্তোলনের উপযোগী। নদীর প্রকৃত গতিপথ রক্ষায় সেখানে বালু উত্তোলন জরুরি। একদিকে জেগেছে বিশাল বালুচর অন্যদিকে মানুষের ফসলি জমি থেকে শুরু করে বসতভিটা চলে গেছে নদীগর্ভে। অথচ কর্তৃপক্ষ এ দুটি মৌজার কোনোটিকেই এখন পর্যন্ত বালু মহাল হিসেবে ঘোষণা করেনি। ফলে ভোগাই নদীর কোথাও বালুচরে বিস্তৃত জমি জেগে আছে আবার কোথাও বা ফসলি জমি খুঁড়ে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।

এর আগে ‘নদী বাঁচাও নালিতাবাড়ী বাঁচাও’ ¯েøাগানে নালিতাবাড়ীর সুধী সমাজ ভোগাইয়ের ইজারা বাতিলের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ ও শহরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনও পালন করেছিল। পরবর্তীতে ইউএনও এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে মতামতও গ্রহণ করেন।

ভোগাই নদী বালু মহালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মর্তুজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী মো: হারুন অর রশিদ জানান, মহালের অন্তর্গত স্থানে বালু না থাকায় আমি অর্থনৈতিকভাবে ব্যপক ক্ষতিগ্রস্থ। বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কাজে নিয়োজিত প্রায় এক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। আমি আশা করি মান্যবর জেলা প্রশাসকসহ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদয় বিবেচনা করবেন।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ীর ইউএনও হেলেনা পারভীন বলেন, যারা ভোগাই নদী ইজারা নিয়েছেন তারা বালু আছে কি না তা দেখেই নিয়েছেন। এখানে সরকার রাজস্ব পায় বিধায় ইজারা বন্ধ বা মৌজা পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। তাই ইজারা বহির্ভুত স্থানে বালু উত্তোলন করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top