নালিতাবাড়ীতে ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের জমি ওয়াকফ করার অভিযোগ

মো: হারুন অর রশিদ | প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২২ ১৮:০০; আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২২ ১৮:০৩

ছবি: শেরপুর ট্রিবিউন

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের ওয়ারিশের জমি মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। বিষয়টির সমাধান চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঐ বোন।

জানা গেছে, উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের বাগিচাপুর গ্রামের মো: আব্দুস সালাম গোরস্থান বাজার এলাকায় ২০ শতাংশ জমি মহিউল উলুম নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। এই ওয়াকফ করা জমিতে বোন কদবানুর ওযারিশ আছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কদবানু ও তার স্বামী সন্তানেরা জানায়, মহর উদ্দিন মৃত্যুকালে পুত্র আব্দুস সালাম ও কদবানুসহ তিন কন্যা রেখে যান। পরে বোনদের সকল সম্পদ ভোগ দখল করে থাকে একমাত্র ভাই আব্দুস সালাম। এক সময় বোনেরা জানতে পারে যে, সালাম গোরস্থান বাজারে একটি মাদরাসায় ২০ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দিয়েছে। যাতে বোনেদের ওয়ারিশ বিদ্যমান।

স্থানীয় আলাল উদ্দীন সহ অনেকেই জানান, কদবানু ওই জমিতে ওয়ারিশ পায়। তাই সালাম তার নিজের জমি ওয়াকফ করতে পারে বোনেরটা নয়।

অভিযুক্ত আব্দুস সালাম জানায়, ওই জমিতে বোনের ওয়ারিশ রয়েছে তা ঠিক। তবে আমি বুঝতে পারিনি। ভুলে লিখে দিয়ে ফেলেছি। তাছাড়া আমি যে মাদরাসাকে লিখে দিয়েছিলাম এখন সেই মাদরাসা নেই। এখন দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসা নামে অন্য একটি মাদরাসা ওই জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

রূপনারায়নকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বাদী পক্ষ জানিয়েছে। তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী কদবানু। যা নায়েবকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও মহোদয়।

রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ্জামান জানান, অভিযোগটি আমার কাছে রয়েছে। বাদীর কাগজপত্র পেলেও আমি বিবাদীদের কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসতে একাধিকবার বলেও কোনো ফলাফল পাচ্ছি না। উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখতে পারলে দ্রুত প্রতিবেদনটি করতে পারতাম।

এদিকে মাদরাসার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক জানান, আব্দুস সালাম ২০০৪ সালে সাড়ে ১২ শতাংশ জমি মাহিউল উলুম নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। একই সময়ে মতিউর রহমান আরো ১০ শতাংশ জমি ওই মাদরাসার নামে ওযাকফ করে দেন। এতে সালামের বোনের কোনো ওয়ারিশ নেই। বর্তমানে মাদরাসাটি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসা। যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চলছে। যার প্রতিষ্ঠাকাল ২০১৭ সাল।





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top