আপনার কন্যা সন্তানকে কিভাবে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলবেন?

মাহিয়া লোবা | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২০:৪৫; আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:২৮

ছবিঃ সংগৃহীত

আমাদের সমাজে ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে প্রকট বৈষম্য দেখা যায়। আর এই বৈষম্য শুরু হয় পরিবার থেকেই। এতে মেয়ে শিশুটি জন্মের পর থেকেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠার পরিবেশ পায় না। 

কিছু নির্দিষ্ট পারিবারিক ও সামাজিক আচরণ কন্যা শিশুর আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। একসময় মেয়েদের ঘরের চৌহদ্দি পার হওয়াই কটু চোখে দেখা হতো। তবে বর্তমানে নারীরা সমাজের সকল স্তরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এখনো আমাদের দেশে বেশিরভাগ পরিবার কন্যা শিশুর সাথে "কন্যা" বলে এমন কিছু আচরণ করে যা তার আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পরিপন্থী।
যেহেতু বচ্চার সেল্ফ কনফিডেন্স এর বুনিয়াদ শুরু হয় নিজের পরিবার থেকেই তাই বাবা মার উচিত  কিভাবে কন্যা শিশুকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেদিকে লক্ষ্য  রাখা।

এ সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন- ছোটবেলা থেকেই কন্যা শিশুর মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। তাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে।ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া যেমন তাকে জিজ্ঞেস করা সে কোন পোশাকটি পড়তে চায় বা সে কি খেতে চায়।কন্যা শিশুকে তার উপযোগী দায়িত্ব দিতে হবে। সেটি পেরে উঠলে তার মনে হবে আমিও পারি।

মনোবিজ্ঞানীরা আরও বলেন-ছোটবেলায় মা বাবার মধ্যে শিশু যে সম্পর্ক দেখে তার উপর ভিত্তি করে সে নিজের অবস্থান ঠিক করে নেয়।সে যদি দেখে পরিবারের সব সিদ্ধান্ত বাবাই নেয় মায়ের কোন ভূমিকা থাকে না তাহলে এমন পারিবারিক পরিবেশ মেয়ে শিশুদের আত্মবিশ্বাসী হতে বাঁধা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের মেয়েদের তার পাশের বাড়ির মেয়েটি বা তার চাচাতো মামাতো বোনদের সাথে গায়ের রঙ, চুল, উচ্চতা, ইত্যাদি নিয়ে তুলনা করা হয়। সরাসরি বলা হয় দেখ ও কতো সুন্দর, পড়াশোনায় তোমার চেয়ে কত ভালো, তুমি তার মতো যোগ্য না। তাদেরএরকম তুলনা করার জন্য আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। মেয়েরা নিজেরাও প্রচলিত টেলিভিশন বিজ্ঞাপন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অন্যদের সাথে নিজের তুলনা করতে শেখে। অনেক অভিভাবক আছেন যারা তাদের কন্যা শিশুর কোথাও দাগ থাকলে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে যান।তারা ভাবেন যে বড় হলে বিয়ে দিতে সমস্যা  হবে। এক্ষেত্রে মা বাবাদের বুঝতে হবে  যে কন্যা শিশুর মুখে বাড়তি দাগ কোন ইস্যু নয়।

কোন কোন পরিবারে ছেলে শিশুর খাবারের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়ে তার জন্য আলাদা খাবার তুলে রাখা হয়। এতে মেয়ে শিশুদের বোঝানো হয় ছেলেদের মেয়েদের চেয়ে উৎকৃষ্ট খাবার প্রাপ্য। এতে করে মেয়ে শিশুটি নিজেকে ছোট ভাবে যা তার আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠার পথে অন্তরায়।
বাংলাদেশের অনেক বাবা মা এবং আত্মীয়-স্বজনরা  মেয়ে শিশু ও ছেলে শিশুর জন্য যে খেলনা কেনেন, তাতেও নিজের সম্পর্কে শিশুর মনোভাব তৈরী হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন,কন্যা শিশুকে সব ধরণের খেলনা কিনে দিন ক্রিকেট ব্যাট,সাইকেল ইত্যাদি ; শুধু পুতুল আর রান্নার খেলনা নয়।বাংলাদেশে একটা বয়সের পর মেয়েদের খেলা বন্ধ হয়ে যায়।কিন্তু মেয়ে শিশুদের সব ধরণের খেলাধূলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করা উচিত।জিমে যাওয়া, সাঁতার কাটা এসব করতে দিলে সেটিও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।খেলাধূলা, শরীর চর্চা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ও নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা তৈরী করে। 
আত্মবিশ্বাসী বাচ্চা জীবনের অনেক প্রতিকূলতা খুব সহজেই মোকাবেলা করতে পারে।জীবনের সকল পদক্ষেপ সঠিকভাবে নিতে সেল্ফ কনফিডেন্স দারুণ সহায়তা করে থাকে।





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top