না জেনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

গাড়ি কেনার আগে কি কি জেনে নিবেন।

শেরপুর ট্রিবিউন | প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২০ ১৮:৫৬; আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২০ ১৫:১৯

ছবিঃ ইন্টারনেট

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। বাড়ছে মাথাপিছু আয়, সাথে উন্নত হচ্ছে জীবনযাত্রার মান। দেশের অন্যান্য জেলার মত শেরপুর জেলাতেও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে, মানুষের আয়ও বাড়ছে, সাথে সৌখিন হচ্ছে মানুষ। আজকের লেখাটি তাদের জন্য যারা গাড়ি কিনতে আগ্রহী। সাধারণত নতুন গাড়িতেই সবার আগ্রহ থাকে, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার জন্য কিনতে হয় রিকন্ডিশন গাড়ি। তাদের জন্যই আজকের কিছু পরামর্শ।

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সকল তথ্য আপনাকে জানতে হবে। ভালো এবং প্রতিষ্ঠিত কোন গাড়ি আমদানিকারকের সাথে যোগাযোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছারাও স্বচ্ছতার একটা বিষয় থাকে। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে থাকে। 

গাড়ির কন্ডিশন কেমন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের দেশে অধিকাংশ গাড়ি জাপান থেকে নিলামের মাধ্যমে আসে। নিলামে আনা গাড়ির প্রকৃত অবস্থা জানাটা সবার জন্য সহজ। গাড়িটির যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে একটি ফাইল তৈরি হয় যাকে বলা হয় অকশন শিট। এই শিটেই সব তথ্য থাকে। অকশন শিটে থাকা সব তথ্যের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অকশন গ্রেড। বাইরে থেকে গাড়ির অবস্থা জানার জন্য এক্সটেরিওর কন্ডিশন বুঝতে হবে। এখানে গ্রেড রয়েছে চারটি। যেমনঃ "এ" গ্রেড হল প্রায় নতুনের মতই। "বি" গ্রেড হল সহজে পরিষ্কার করা যাবে আর "সি" গ্রেড মানে হালকা ঘষা মাজার দাগ থাকবে।"ডি" গ্রেড মানে একেবারেই ভালো না। এগুলো গেলো বাইরের দিকের অবস্থা। অন্যদিকে ভেতরের দিকের গ্রেডগুলো হলো- "এস", এটা একেবারেই নতুনের মত, চলেছেছ খুব কম, দামও অনেক বেশি। ৬ নম্বর গ্রেডও নতুনের মতে তবে কিছুটা বেশি চলেছে। এভাবে ৪.৫, ৪, ৩.৫ এসকল গ্রেডের গাড়ি পাওয়া যায়। তবে ৪ গ্রেডের গাড়িই এদেশে বেশি আসে। সর্বশেষ গ্রেড হচ্ছে "আর"। এধরনের গাড়ি কোন দুর্ঘটনায় বড় রকমের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তাই মেরামত প্রয়োজন। তাই গাড়ি কেনার সময় দেশে শুনে ও বুঝে গাড়ি কিনতে হবে। এছাড়াও গাড়ি কত কিলোমিটার চলেছে বা মাইলেজ কত সেটিও দেখতে হবে।

গাড়ির আমদানি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি দেখে কিনতে হবে। বিশেষ করে ইন ভয়েস, বিল অব লোডিং, বিল অব এন্ট্রি, জাপান অটোমোবাইল এপ্রাইজাল ইনস্টিটিউটের সার্টিফিকেট ইত্যাদি।

গাড়ি বিক্রেতাই প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রেডি করে দিয়ে থাকেন। যেমনঃ ট্যাক্স টোকেন, ফিটিনেস পেপার, মূল কাগজ ইত্যাদি। সুতরাং এগুলো সব বুঝে নিতে হবে।

অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত কোন গাড়ি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গাড়ি কিনতে হবে। কেননা ক্রয় পরবর্তী সেবা একটি জরুরি বিষয়। তাছারাও ভূইফর প্রতিষ্ঠান থেকে গাড়ি কিনে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পরামর্শ দিয়েছেনঃ আব্দুল হক, সভাপতি, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশন।



বিষয়:



এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top