পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে অনলাইন পাঠদান ও সীমাবদ্ধতা।

মো: ফুয়াদ আল হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। | প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২০ ১৮:৫৭; আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২০ ০২:১৭

ছবিঃ মো: ফুয়াদ আল হাসান
কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চের ১৮ তারিখ থেকে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের সকল স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম। ব্যতিক্রম ছিল না উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও। স্থবিরতা কাটিয়ে উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রমকে পূণরায় গতিশীল করতে গত ২৫শে জুন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি) একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করে। উক্ত বৈঠকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম তথা ক্লাস,এসাইনমেন্ট ইত্যাদি পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত উল্যেখ্য, গত মার্চের শেষের দিকেই কতিপয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। বাকিরাও পরবর্তী মাস এপ্রিলের শুরুর দিক থেকেই অনলাইন মাধ্যমে ক্লাস,এসাইনমেন্ট ও পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
 
কিন্তু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইনভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগসমূহের নিজস্ব ওয়েব পোর্টাল,শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ,অত্যাবশ্যকীয় ডিভাইস যেমন ল্যাপটপ,ট্যাব,স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় লকডাউনের শুরু থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ধরণের পদক্ষেপ নিতে পারে নি।
 
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এ মর্মে একটি জরিপ পরিচালনা করে। তাদের করা জরিপ অনুযায়ী পাবলিক বিশ্বাবিদ্যালয়মূহের শতকরা ৮৭ ভাগ শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। বাকি ১৩ ভাগ শিক্ষার্থীকেও এ সুবিধার আওতাভুক্ত করার উদ্যেশ্যে প্রয়োজনীয় ডিভাইস কেনার জন্য এককালীন সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেয় ইউজিসি। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের একটি বিরাট অংশ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে যেহেতু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনেক অসচ্ছল পরিবারের সন্তান লেখাপড়া করে থাকেন। পাশাপাশি অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করেন।
 
কিন্ত দু:খজনক বিষয় হল, ঘোষণার পর দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হলেও,এখনো পর্যন্ত ঘোষিত ঋণের টাকা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌছায়নি। এদিকে চলমান অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। দেশের পরিপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইশত জন শিক্ষার্থীর মাঝে ফেইসবুকভিত্তিক একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। এতে দেখা যায়, শতকরা ৩৭ ভাগ শিক্ষার্থী বলেন, তারা নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেন। শতকরা ২৫ ভাগ শিক্ষার্থী বলেন,তারা নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেন না। শতকরা ১৩ ভাগ শিক্ষার্থী এ পর্যন্ত একটি ক্লাসেও অংশগ্রহণ করেননি বলে জানান। শতকরা ৭ ভাগ শিক্ষার্থী বলেন, তাদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। শতকরা ৪ ভাগ শিক্ষার্থী বলেন, তাদের বিভাগে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। শতকরা ৯ ভাগ শিক্ষার্থী জানান, তাদের বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও এটি তেমন কার্যকারী ও ফলপ্রসূ নয়। এদের মধ্যে শতকরা ৪ ভাগ শিক্ষার্থী জানান,তাদের বিভাগে একটি মাত্র কোর্সের ক্লাস হচ্ছে এবং তারা সেটিতে অংশগ্রহণ করেন। অপর ৪ ভাগ শিক্ষার্থী বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত নন।
 
এর বাইরে কতিপয় শিক্ষার্থীর সাথে সরাসরি কথা বলে জানা যায়, তাদের অবস্থান প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় ডিভাইস থাকা সত্ত্বেও ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য যে শক্তিশালী ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন তা না থাকার দরুন তারা ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামিম আহমেদ সাগর বলেন, একদিকে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য তার প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই; অপরদিকে ক্লাস চলাকালীন সময়ের জন্য অন্য কারো ডিভাইস ব্যাবস্থা করতে পারলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি হওয়ায় তিনি নিরবিচ্ছিন্ন শক্তিশালী ইন্টারনেট সংযোগ পান না।
 
এমতাবস্থায় উল্লিখিত সমস্যাগুলির সমাধান করে শতভাগ শিক্ষার্থীকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় এনে এ কার্যক্রমকে ফলপ্রসু ও কার্যকরী করার জোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
 


বিষয়:



এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top