নক্ষত্রের অবেলা

সোহাগী আক্তার | প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২১ ২৩:৫৬; আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:৩২

ছবিঃ সংগৃহীত

আশির দশকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া প্রাণের সংগঠন "বাংলাদেশ ছাত্রলীগ" করতে গিয়ে যে ক'জন নিবেদিতপ্রাণ ছাত্রনেতা'র উদয় হয়েছিল তাঁর মধ্যে বদিউজ্জামান বাদশা ছিলেন অন্যতম। বাকৃবি ক্যাম্পাসের এক জীবন্ত আলোক বর্তিকা। সে আলো এখন ক্লান্ত রবির ক্ষীণ জ্যোতির মতো ঝিমিয়ে পড়েছে।

জানালার বাইরে কত্ত রোদ! অথচ বাদশা চোখ বন্ধ করে আছেন। ঘর ভরা কত্ত বাতাস! কিন্তু তিনি নিঃশ্বাস নিচ্ছেন দম টেনে টেনে। যে ঘরে ঢোকা মাত্রই হৈ হুল্লুড় হাসি আনন্দ–রাজনৈতিক আড্ডা জমপেশ হয়ে ওঠতো–সে ঘর এখন স্তব্ধ নির্জন নিঃশব্দ নিশ্চুপ। বাদশা শুয়ে আছেন অপরাহ্ণ পেরিয়ে সায়াহ্ণের কিনারে। একটু পরেই বেলা ডুববে; আজন্ম কর্মী সংগ্রামী বাদশা চলে যাবেন অনন্ত বিশ্রামে।

বলছিলাম বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও দেশবরেণ্য কৃষিবিদ বদিউজ্জামাম বাদশা'র কথা।
চার দশক ধরে যিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলকে করে চলেছেন সমৃদ্ধ-তিনি এখন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অন্তিম অবসরে।

সময়ের বিবর্তনে এক সময়ে আলোচনার টেবিল থেকে শুরু করে, পার্টি অফিস এর সভা, হলের সভা,পাঁচ তলা প্রশাসনিক ভবনের কোরিডোরের সভা, দলের সভা সহ রাজপথের মিছিল মিটিংএ সবাইকে ছাপিয়ে যে নেতাটি ধীরে ধীরে তাঁর নিজস্ব বলার ঢং, অসাধারণয় শব্দ চয়ন, কথামালা আর বাচন ভঙ্গি তথা বক্তৃতা দিয়ে একজন অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে খুব সহজেই সকল মহলের (ছাত্র, শিক্ষক, জনতা এবং কর্মকর্তা- কর্মচারী) দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর বক্তৃতায় এক ধরনের সম্মোহনী শক্তি ছিল যা ছাত্রসমাজ কে গভীরভাবে টানতো। তাঁর বক্তৃতায়

এক ধরনের মায়াবী যাদু ছিল যা সবার হৃদয়কে ছুঁয়ে যেতো অতি সহজেই। সেই কারনে বাদশা খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। তাঁর এই সুনাম বিশ্ববিদ্যালয় গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ময়মনসিংহ জেলা শহরে। তাঁর এই বাগ্মিতায় আকৃষ্ট হন ময়মনসিংহ শহরের প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া এবং অধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্যার।

বঙ্গবন্ধু আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে জনতার বাদশা হয়ে গিয়েছিলেন। তাই শেরপুর এর নালিতাবাড়ি'র মানুষ তাঁকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি। এলাকার মানুষ এর ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছিলেন অগণিত মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৪০ টির অধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ। তাই সারা দেশের উপজেলা চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। কিন্তু রাজনীতির বন্ধুর পথে হাঁটতে গিয়ে করে হোঁচট খেয়েছিলেন বারবার।

প্রকৃতি হয়তো আপনার পার্থিব উপস্থিতিকে অদৃশ্য করে দিবে –কিন্তু আপনি রয়ে যাবেন আমাদের ভুবনেই। আপনাকে ছেয়ে থাকুক অনন্ত শান্তি ।
‘‘নক্ষত্রকেও একদিন মরে যেতে হয়’’





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top