শেরপুরে এসে পৌঁছালো ২০ হাজার ডোজ চীনা টিকা

সোহাগী আক্তার | প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২১ ২৩:৪৭; আপডেট: ১১ জুলাই ২০২১ ২৩:৪৮

ছবিঃ শেরপুর ট্রিবিউন

শেরপুরে চীন থেকে বাণিজ্যিকভাবে কেনা সিনোফার্মের ২০ হাজার ৮০০ টিকার ডোজ পৌঁছেছে। আজ রবিবার (১১ জুলাই) সিনোফার্মের টিকার ডোজ নিয়ে ব্যাক্সিমকো ফার্মার একটি ফ্রিজার ভ্যান সকালে শেরপুরে পৌঁছালে জেলা টিকা গ্রহণ কমিটির সভাপতি ও সিভিল সার্জন ডাঃ এ.কে.এম আনওয়ারুর রউফ সিনোফার্মের এ টিকা গ্রহণ করেন। এসব টিকা আনার পর জেলা টিকা কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সিভিল সার্জন ডাঃ এ.কে.এম আনওয়ারুর রউফ জানান, আনুষ্ঠানিকতা সেরে টিকাগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়েছে। কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রামের তৃতীয় পর্যায়ে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের জন্য চীনের তৈরি এসব টিকা ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরও জানান, আমরা আজই টিকাগুলো উপজেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছি। চলমান দ্বিতীয় ডোজের টিকাদানের পাশাপাশি আশা করছি আগামীকাল সোমবার (১২ জুলাই) থেকেই এ টিকাদান কর্মসূচি ৫ উপজেলায় শুরু হবে। টিকা দেওয়া হবে জেলা সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্র এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোর নির্ধারিত কেন্দ্রে। যারা আগে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন কেবল তারাই গ্রহণ করতে পারবেন এ টিকা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে শেরপুর জেলায় ভারতের সেরাম ইনিস্টিউটের তৈরি অক্সফোর্ড -এস্ট্রাজেনেকার ৩৬ হাজার ডোজ টিকা পাঠানো হয়। এরপর ১৮ জুন তৃতীয় ধাপে চীনের সিনোফার্মের তৈরি ১২ হাজার ডোজ টিকা এবং ১১ জুলাই ২০ হাজার ৮০০ টিকা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে শেরপুরে এ পর্যন্ত ৬৮ হাজার ৮০০ ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে।

এদিকে শেরপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড আরও ১১৩ জন নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যু হলো ৪১ জনের।

রবিবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৩৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বুলেটিনের তথ্যমতে, নতুন ১১৩ জনসহ জেলায় এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২১৯ জন। তারমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৯৮ জন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৪ জন।

জেলায় কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩৯১ জন। তারমধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২১ হাজার ৭৩১ জন।

সিভিল সার্জন জানান, জনগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে মাস্ক পরিধান না করলে কোভিড-১৯ সংক্রামন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। কাজেই মাস্ক পরিধানে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি করোনা সংক্রমণ রোধে মাস্ক পড়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং আগামী ২ সপ্তাহ বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top