চিরকুট লিখে তরুণীর আত্মহত্যা!

শেরপুর ট্রিবিউন | প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৪:০২; আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:২৪

ছবিঃ সংগৃহীত

"রাশেদ কে বাঁচতে দিওনা আম্মু, রাশেদ আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিল। রাশেদের কারণে আমি আমার জীবন শেষ করে দিলাম" চিরকুটে এ কথা লিখে আত্মহত্যা করেছেন ইতু(১৫) নামের স্কুল পড়ুয়া এক অন্তঃসত্বা ছাত্রী। সে শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা পশ্চিমপাড়ার রহমতুল্লাহর মেয়ে এবং স্থানীয় নতুনকুঁড়ি স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। ১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে ইতু আত্মহত্যা করে।

জানা যায়, পাশ্ববর্তী কুঠুরাকান্দা পূর্বপাড়ার অগ্রদূদ স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র রাশেদের সাথে ইতুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইতুর সাথে একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক করে রাশেদ। একপর্যায়ে ইতু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করে অই প্রেমিক। আর এতে লজ্জায় আত্মহত্যা করে ইতু। উদ্ধারকৃত চিরকুটে লিখা ছিল, "আম্মু রাশেদের কারণে আমি আমার জীবন শেষ করে দিলাম। পারলাম না কষ্ট করে আর এই তরে বেঁচে থাকতে। জানি আমি তুমাকে অনেক কষ্ট দিছি, আর এর জন্য তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। রাশেদ আমাকে বলছিল, কোনদিন আমাকে ভুলে যাবেনা। আর এসব মিথ্যা কথা বলে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছিল। এখন আমার সাথে রিলেশন রাখতে চায়না। এর জন্য আমার জীবন দিয়ে দিলাম। রাশেদকে কখনও সুখে থাকতে দিওনা, এটা তুমাকে কসম দিলাম। তুমি রাশেদের জীবন নষ্ট করে দিও, যে তোমার অসহায় মেয়ে জীবন নষ্ট করে দিয়ে, তোমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিল। তুমি তার জীবন নষ্ট করে দিও। রাশেদ আমাকে বাঁচতে দিলনা কারণ তার বাচ্চা আমার পেটে"।

চিরকুটে আরও লেখা ছিল, "মৌসুমি আন্টি, মেঘলা, সাজেদা আপা, আজাদ ভাই, খুশি আপা, নিশি, শফিক, মোশাররফ ও ময়নাল তারা সবাই আমার আর রাশেদের কথা জানে। তামজিদ, রাশেদের কাকা এরা সবাই মিলে আমার জীবন শেষ করে দিছে"। এব্যাপারে শেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ- আল-মামুন বলেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



বিষয়:



এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top