শেরপুরে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বন্য হাতির মৃত্যু

সোহাগী আক্তার | প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২১ ১৩:২৫; আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:৩২

ছবি: শেরপুর ট্রিবিউন

শেরপুরের গারো পাহাড়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে একটি বন্য হাতি মারা গেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। শ্রীবরদীর মালাকুচা নেয়া বাড়ি টিলার কাছে একটি সবজির বাগানের তারের বেড়ায় জড়িয়ে মঙ্গলবার ভোরে হাতিটি মারা যায়।

শেরপুর ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বন বিভাগের বালিজুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। তিনি জানান, শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গল নষ্ট করে অবৈধভাবে সবজিসহ নানা ফসলের আবাদ করেছে দখলদাররা। বাধা দেয়া হলে বন কর্মকর্তাদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়। জিআই তারের বেড়া তুলে নিতে তাদের বারবার নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। এ কারণেই ওই সবজিবাগানে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হাতিটির ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গত এক মাস যাবত শেরপুর জেলার সীমান্তবার্তী গারো পাহাড় এলাকায় বন্য হাতির আবাস স্থলে স্থানীয় গ্রামবাসী হামলা শুরু করে। এতে হাতির পাল বিক্ষুব্ধ হয়ে বনের ভিতর বন বিভাগের জমিতে কিছু অবৈধ সবজি বাগান সাবার করে লোকালয়ে এসে মানুষে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ করে। এতে স্থানীয় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে হাতি নিধনে। হাতির গভীর জঙ্গলের বিচরণ স্থলে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে শুরু করে হামলা। দিনব্যাপী সীমান্তবাসীর কাজই যেন হয়ে উঠে হাতি তাড়ানো কাজ। এসবের পাশপাশি শুরু করেন জেনারেটর এবং বিদ্যুতের তাড় দিয়ে বনের ভিতর ফাঁদ পাতা। ফলে বন্য হাতি মানুষ আতংকে বেশ কয়েক দিন তাদের আবাসস্থ থেকে অন্যত্র অবস্থা করে আবারও শনিবার এসে অবস্থান নেয় বালিঝুড়ি পাহাড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোর রাতে শ্রীবর্দী উপজেলার বালিঝুড়ি রেঞ্জের মালাকুচা গ্রামের বনের ভিতর কৃষক আমীর আলীর বাড়ির চারপাশে পাতা বিদ্যুতের তাড়ে জড়িয়ে এক বন্য হাতির মৃত্যু হয়। মৃত ওই পুরুষ হাতিটির বয়স ২৫/৩০ হতে পারে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানাগেছে।

উল্লেখ্য যে, শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গত ১০ বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২ টি হাতি মারা পড়ে। এছাড়া বিগত ৩০ বছরে এই এলাকায় হাতি মারা পড়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি। পাশপাশি হাতির আক্রমনেও মানুষ মারা পড়েছে প্রায় অর্ধশত। ফসলের ক্ষেত ও ঘর-বাড়ির ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছে কোটি টাকার। এমতাবস্থায় সরকার হাতি-মানুষ সহাবস্থানের জন্য নানা প্রকল্প গ্রহন করলেও কোন টিতেই সফল হতে পারেনি।





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top