ইউপি নির্বাচন: পোড়াগাঁও ইউনিয়নে প্রার্থীর ছড়াছড়ি

হারুন অর রশিদ | প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৩৬; আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ১৮:৪৮

প্রতীকী ছবি।

ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নালিতাবাড়ী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যপক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। এর মধ্যে বেশীরভাগ প্রার্থীই ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। অল্প কিছু সংখ্যক প্রার্থী বিএনপি ও কিছু প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন। যদিও প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনের হিসেবে ডজন খানেকের উপরে প্রার্থী রয়েছে তবে শেষ পর্যন্ত কয়জন প্রার্থী মাঠে থাকে তা দেখার বিষয়।

নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের প্রার্থী, দলীয় মনোনয়ন ও সম্ভাব্য বিজয়ে কোন প্রার্থী এগিয়ে তা নিয়ে শেরপুর ট্রিবিউনের বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ থাকছে ১নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নের হালচাল নিয়ে নির্বাচনী সার্বিক অবস্থা।

ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেষা পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আয়তন ২৮.৫৬ বর্গকিলোমিটার। ১৩ টি গ্রামে মুসলিমদের পাশাপাশি গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী নিয়ে এই ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত। উপজেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্র মধুটিলা ইকোপার্ক এই ইউনিয়নেই অবস্থিত।

বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আজাদ মিয়া ছাড়াও ৮ জন প্রার্থী মাঠে প্রচারনায় রয়েছে। এর মধ্যে বেশী আলোচনায় রয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বন্দনা চাম্বুগং, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তোতা মিয়া ও ধর্ম সম্পাদক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা জামাল উদ্দিন। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কারান্তরীণ মজিবর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, বর্তমান ইউপি সদস্য রহুল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর অফিসার প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম রাজু।

বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আজাদ মিয়া গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। তাছাড়া গত ইউপি নির্বাচন পর্যন্ত দলে তার ছিলোনা কোন নূন্যতম অবস্থান বা সদস্য পদ। তাই বলা চলে এইবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে হলে আজাদ মিয়াকে অনেকটাই বেগ পোহাতে হবে। দলীয় মনোনয়ন ছাড়া এবারের নির্বাচনে জয় তুলে আনা তার জন্য অনেকটাই অসাধ্যকর হবে বলে ভাবা হচ্ছে।

বন্দনা চাম্বুগং গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ছিলেন। দলীয় কিছু নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় গত নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত অল্প কিছু ভোটের হেরে যান তিনি। তবে এবারও দলীয় মনোনয়ন পেলে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জয় তুলে আনতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তোতা মিয়া গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আনুগত্য দেখিয়ে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এবার যদি দল তার ওপর আস্থা রাখে তবে অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জয় তুলে আনা তোতা মিয়ার জন্য বেশী কষ্টকর হবেনা।

অন্যদিকে এবারে সবচেয়ে বেশী আলোচনায় রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ব্যবসায়ী মাওলানা জামাল উদ্দিন। সংকটকালীন সময়ে ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকা সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড ও ধর্মীয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা এবং সার্বিক বিবেচনায় মাওলানা জামাল উদ্দিন এবারের নির্বাচনে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের জন্য ফিটেস্ট প্রার্থী। আর যদি তিনি শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে থাকেন তবে অন্য যে কাউকেই বিজয়ী হতে বেগ পোহাতে হবে। তাই দল যদি মাওলানা জামাল উদ্দিনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক দেয় তবে অনায়াসেই তিনি বিজয় উপহার দিতে পারবেন।

এছাড়াও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান চৌধুরী নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছেন। যদিও তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে কারাগারে আছেন। দলীয় ভাবে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে তিনি নির্বাচনে আসবেন কিনা তা নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে।

বিএনপির আরেক প্রার্থী ওমর ফারুক গত নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দলীয় ভাবে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও তিনি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন যা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত।

ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ইউপি সদস্য রহুল আমিন মেম্বারও চেয়ারম্যান হিসেবে প্রার্থীতা জানান দিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন মোড়ে ব্যানার পোস্টার টানিয়েছেন এবং মাঠ পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বাদ বাকীদের মধ্যে প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম এখন পর্যন্ত ব্যানার আর পোস্টারেই প্রার্থীতা সীমাবদ্ধ রেখেছেন। আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় তাকে খুব বেশী একটা লক্ষ করা যায়নি। অপর প্রার্থী স্থানীয় বেকারী ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম রাজুও এখন পর্যন্ত নিজের প্রার্থীতা ব্যানারেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

তাই বলা চলে- এবারে পোড়াগাঁও ইউনিয়নে একটি জমজমাট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত মাওলানা মোঃ জামাল উদ্দিন, আলহাজ্ব মোঃ আজাদ মিয়া, বন্দনা চাম্বুগং, মোঃ তোতা মিয়া ও ওমর ফারুকের মধ্যে লড়াই হবে। অবশ্য দলীয় মনোনয় কে পাচ্ছে কে পাচ্ছেনা তার ওপর এই নির্বাচনী লড়াই নির্ভর করছে।





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top