রামচন্দ্রকুড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন

মো: হারুন অর রশিদ | প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৩ ০০:০৪; আপডেট: ৪ মার্চ ২০২৪ ২৩:৪৩

ছবি: শেরপুর ট্রিবিউন

মধ্যযুগীয় কায়দায় হাত বেঁধে মারধোর, কান ধরে উঠবস করানো, বিচারের নামে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করা, মিথ্যা মামলায় ফাসানো সহ প্রতিনিয়ত জীবন নাশের হুমকির অভিযোগ এনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভূক্তভোগী।

শনিবার (২৭ মে) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এসব অভিযোগ আনেন একই ইউনিয়নের মৃত সাহেদ আলীর ছেলে মো: সুরুজ আলী।

সংবাদ সম্মেলনে সুরুজ আলী বলেন, গত ১৮ মার্চ আমার দুঃসম্পর্কের আত্মীয় হাসেম আলী ও নবী হোসেনের সাথে যোগসাজশে চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকা, ইউপি মেম্বার চাঁনমিয়া আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের ভূয়া অভিযোগ এনে আমাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় ব্যাপক মারধোর করে কানধরে উঠবস করায় ও আমার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাংচুর করে একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করে। পরর্তীতে আমি বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে চেয়ারম্যান সহ পাঁচ জনের নামে শেরপুর কোর্টে মামলা করেছি। এই মামলা করার ফলে চেয়াম্যান সহ তার পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছে। এতে ভীত হয়ে আমি নালিতাবাড়ী থানায় জিডি করি। তারপরেও চেয়ারম্যান টাকা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা করে। মিথ্যা মামলা করার পরে গত ৯ এপ্রিল আবার চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে ও আমার স্ত্রীর ওপর হামলা করে মারধোর করে ও আমার স্ত্রীর অলঙ্কার ছিনতাই করে। এখন প্রতিনিয়ত চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। ৯ এপ্রিল আমাকে মারধোর করার ঘটনায় আমার স্ত্রী শেরপুর কোর্টে বাদী হয়ে মামলা করে। মামলা গুলো তদন্তাধীন। এর পর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকা আমাকে তার লোকজন দ্বারা প্রতিনিয়ত মেরে লাশ ঘুম করে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। গত ২৫ ও ২৬ মে আমাকে আবারো রাস্তা রোধ করে মারধোর করে ও মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়। এমতাবস্থায, চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকাসহ উল্লেখিত আসামীগন যেকোন সময় আমার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমি এখন প্রতিটা মুহুর্ত জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। তাই আগামীগনের উপযুক্ত শাস্তি এবং আমি যেন ন্যায় বিচার পাই ও আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ পুলিশের মাননীয় আাইজিপি, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি, শেরপুরের মান্যবর জেলা প্রশাসক, মাননীয় পুলিশ সুপার, শেরপুর, মাননীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, নালিতাবাড়ী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নালিতাবাড়ী ও নালিতাবাড়ী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।


অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকা বলেন, সুরুজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ আছে। তাই বিচার করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো। তবে তাকে কোন মারধোর বা নির্যাতন করা হয়নি।





এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top