প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পাঠকের দ্বারপ্রান্তে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

সোহাগী আক্তার | প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২০ ০২:৩১; আপডেট: ৬ নভেম্বর ২০২০ ১৭:০২

ছবিঃ সংগৃহীত

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে সারাবিশ্ব যেখানে থমকে আছে সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও থেমে নেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম। স্বাভাবিক সময়ের কার্যক্রমের বাইরে শুরু করা হয়েছে অনলাইন ভিত্তিক মাসিক নানান আয়োজন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিভিন্ন বিভাগে রচনা, আবৃত্তি, গ্রন্থপাঠ, স্বরচিত কবিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং পুরষ্কার বিতরণ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানুষের দোরগোড়ায় জ্ঞানের আলো পৌছে দিচ্ছে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি শেরপুর ইউনিট।

পাঠক যাতে সহজেই বই পড়তে পারে সেজন্য ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। সপ্তাহে ৬ দিন বই ভর্তি এই গাড়িটি জেলার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যায়। নির্ধারিত স্থানে পাঠকের জন্য গাড়ি অপেক্ষারত থাকেন। কখন আসবে গাড়ি, আর কখন পুরাতন বই জমা দিয়ে নতুন বই সংগ্রহ করবেন তারা। এই লাইব্রেরির পাঠক শুধুমাত্র শিক্ষার্থী নয়, রয়েছে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেমন- শিক্ষক, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, গৃহিনীসহ আরও অনেকেই। জানা যায় ২০১১ সাল থেকে শেরপুর ইউনিটের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি'র একটি গাড়ি সপ্তাহে দুইদিন জামালপুর শহর থেকে এসে শেরপুর শহরে প্রথম যাত্রা শুরু করে আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে। তারপর ২০১৯ সালের জুলাই মাসে নতুন করে পুরোপুরিভাবে শেরপুর জেলার জন্য একটি গাড়ি সংযুক্ত হলে আবার নতুন করে শেরপুর জেলা ইউনিটের যাত্রা শুরু হলে শেরপুর সদর, নকলা, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলাসহ জেলার মোট ৪৪ টি স্পটে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির এই গাড়িটি নানা রকম বই নিয়ে পাঠকের সামনে বই পড়ার সুযোগ করে দেয়।

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির শিশু পাঠক শিহাবুল হাসান এর সাথে কথা হলে সে বলতে থাকে, "এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিটি আমার খুব পছন্দের। এটি আমাদের স্কুলের সামনে আসায় আর আমার বাসা স্কুলের কাছাকাছি হওয়ায় আমাকে অন্য কোথায় যেতে হয় না। খুব সহজেই আমি এখান থেকে বই নিয়ে বাসায় পড়তে পারি"। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের শেরপুর ইউনিটের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধ যেকোন বয়সের মানুষের মধ্যে কৌতুহল আছে এ লাইব্রেরি নিয়ে। যে কেউ এসেই এখান থেকে বই নিয়ে পড়তে পারবে। স্পট ভিত্তিক সময় তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়িটি যায় এবং এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে। এ সময়ে লাইব্রেরির সদস্যরা বই নিতে পারে। লাইব্রেরিতে প্রায় তিন হাজার বইয়ের মধ্য থেকে নিজের পছন্দের বই খুজে বের করে কার্ডের মাধ্যমে বই ইস্যু করা হয় এক সপ্তাহের জন্য। এক সপ্তাহ পর বইটি পড়া শেষ করতে না পারলে পরের সপ্তাহের জন্য ইস্যু করা বই রিনিউ করে নেওয়ার সুযোগ আছে। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে সদস্য হওয়ার নিয়ম প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমরা দুই ধরনের সদস্যপদ দিয়ে থাকি একটি সাধারণ এবং অন্যটি বিশেষ। সাধারণ সদস্য হতে ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা অর্থ বাবদ ১০০ টাকা আর বিশেষ এর জন্য লাগে ২০০ টাকা। এছাড়া সদস্যের বই রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ১০ টাকা ফি দিতে হয়। সাধারণ সদস্যরা অনধিক ১৫০ টাকা ও বিশেষ সদস্যরা অনধিক ২৫০ টাকা মূল্যের একটি করে বই বাসায় নিয়ে গিয়ে পড়ার সুযোগ পান।

উল্লেখ্য যে, শেরপুর শহরে একটি সরকারি গণগ্রন্থাগার থাকলেও গ্রন্থাগারটিতে বই পরুয়া ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা অনেকেই প্রতিদিন যেতে পারেনা। তাই বই পাগল মানুষের একমাত্র ভরসা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। প্রতি শুক্রবার, সোমবার ও বুধবার শহরের নির্দিষ্ট ২৪ টি স্থানে স্থানে এসে দাঁড়ায় বইয়ের গাড়ি। গাড়িতে থাকে প্রায় তিন হাজারের মতো বই। এর মধ্যে রয়েছে প্রবন্ধ, উপন্যাস, আত্মজীবনী, ইতিহাস, কবিতা, সাইন্স ফিকশন, অনুবাদ, ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ, শিশু কিশোর সাহিত্য, ভ্রমণ কাহিনীসহ ধর্মীয় নানান বই।



বিষয়:



এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top